পোস্টগুলি
মে, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
মনের কথা কই আজকের বিষয় - বাস্তবতা মেনে নিতে পারলে খুব সহজেই ভালো থাকা যায়। বাস্তব শব্দ টা বেশ কঠিন, যেখানে কোমলতার কোন স্থান ই নেই।বাস্তব বলতে আমি বুঝি ষড়রিপু যুক্ত মানুষের জগত। আমাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী মানুষ। প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি কাজের জন্য ই আমাদের মানুষের উপর নির্ভর করতে হয়। কার মধ্যে লোভ বেশী,কে ঠকানোতে দক্ষ, কে দয়ালু কে হিংসুক তা বোঝার দক্ষতা প্রত্যেকের থাকে না।তাই আবেগকে প্রাধান্য না দিয়ে, হিসাব করে বাস্তবের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনে কাজ ও সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।আমি যদি আবেগী হই তাহলে অন্তত" ভোগে না ,ত্যাগেই জীবন"- এই কথাটি মনে রেখে বেহিসাবী জীবন যাপন করব।তাহলে হারাবার ভয়, প্রতারিত হওয়ার কষ্ট আমাকে কষ্ট দেবে না ,এটাই বাস্তব। সুতরাং বাস্তবতা মেনে নিতে পারলেই খুব সহজেই ভালো থাকা যায়।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
যুক্তি তর্ক বিতর্ক বিষয় --- মৃত্যুর পরে কি জীবন আছে?পক্ষে কিছু বক্তব্য বিচারক মন্ডলী র গোচরে আনার চেষ্টা করছি।বিচারক গনকে নমস্কার জানাই । জন্ম হবার পর, যখন ভালো মন্দ বিচার করার শক্তি প্রাপ্ত হল আমার এই মানব জীবন, সেদিন থেকেই মা- ঠাকুরমার মুখে মুখে ফিরতে শুনেছি,ইহকাল আর পরকাল শব্দ দুটি,এই শব্দ দুটি মানব জীবনের সাথে ওতপরতো ভাবে সম্পৃক্ত। জীবনের বর্তমান অবস্থার নাম ইহকাল, জীবন পঞ্চভূতে বিলীন হবার পরবর্তী সময়ের নাম পরকাল।দৈবিক ,আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক মতবাদ ভিন্ন মত পোষণ করে।আমি সে মতবাদ সমূহের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা করে পরিসর বৃদ্ধি করছি না। আমার , প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিক্ষার আলোকে যে ঙগান জীবন সম্বন্ধে হয়েছে ,তার সাহায্যেই বলছি মৃত্যুর পরেও জীবন আছে।প্রথমত- কোন রোগ হলে আমরা বলি ,মানুষ টির জীবনী শক্তি কম / বেশী।অর্থাত আমরা কোনও তত্ব নির্ভর না হয়েও মেনে নিচ্ছি, জীবন একটি শক্তি।বৈঙাগিনিক তত্ব অনুযায়ী শক্তির বিনাশ হয় না,রূপান্তর হয় মাত্র। তাহলে বৈঙগানিকগন অবশ্যই মানবেন মৃত্যুর পর মানব জীবনের শক্তির রূপান্তর হয মাত্র ।দেহ থেকে বিদেহে। জীবদেহের যে শক্তিসমূহ জীবনের লক্ষন প্রকাশ করে বলে বিঙগান বিশ্বাস করে তা ইহকাল বলে বিবেচিত হয়। সে শক্তির প্রভাব বহন করে নিয়ে চলে জীবনের লক্ষন রহিত হবার পরেও অর্থাত পরকালে।প্রশ্ন আসে কিভাবে!উত্তর স্বরূপ বলি মহামানব গন যে কর্ম করে গেছেন তা শ্রদ্ধার সাথে যুগ যুগ ধরে স্বীকৃত হচ্ছে, বর্তমান জীবনের উন্নত কর্ম মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে অর্থাত পরকালে প্রভাব বিস্তার করে যার ফলাফলে সে পায় আরও উন্নত মানের জীবন বা জীবনী শক্তি। পঞ্চ ভূতে বিলীন হয়ে যাওয়া জীবনের শক্তি/আত্মার শক্তি বাযুর ইথার মাধ্যমে ভাসতে থাকে যা দেহে প্রবেশ করে ,ইহকালের কর্ম অনুসরণ করে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
যুক্তি তর্ক বিতর্ক বিষয় --- মৃত্যুর পরে কি জীবন আছে?পক্ষে কিছু বক্তব্য বিচারক মন্ডলী র গোচরে আনার চেষ্টা করছি।বিচারক গনকে নমস্কার জানাই । জন্ম হবার পর, যখন ভালো মন্দ বিচার করার শক্তি প্রাপ্ত হল আমার এই মানব জীবন, সেদিন থেকেই মা- ঠাকুরমার মুখে মুখে ফিরতে শুনেছি,ইহকাল আর পরকাল শব্দ দুটি,এই শব্দ দুটি মানব জীবনের সাথে ওতপরতো ভাবে সম্পৃক্ত। জীবনের বর্তমান অবস্থার নাম ইহকাল, জীবন পঞ্চভূতে বিলীন হবার পরবর্তী সময়ের নাম পরকাল।দৈবিক ,আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক মতবাদ ভিন্ন মত পোষণ করে।আমি সে মতবাদ সমূহের আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা করে পরিসর বৃদ্ধি করছি না। আমার , প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিক্ষার আলোকে যে ঙগান জীবন সম্বন্ধে হয়েছে ,তার সাহায্যেই বলছি মৃত্যুর পরেও জীবন আছে।প্রথমত- কোন রোগ হলে আমরা বলি ,মানুষ টির জীবনী শক্তি কম / বেশী।অর্থাত আমরা কোনও তত্ব নির্ভর না হয়েও মেনে নিচ্ছি, জীবন একটি শক্তি।বৈঙাগিনিক তত্ব অনুযায়ী শক্তির বিনাশ হয় না,রূপান্তর হয় মাত্র। তাহলে বৈঙগানিকগন অবশ্যই মানবেন মৃত্যুর পর মানব জীবনের শক্তির রূপান্তর হয মাত্র ।দেহ থেকে বিদেহে। জীবদেহের যে শক্তিসমূহ জীবনের লক্ষন প্রকাশ করে বলে বিঙগান বিশ্বাস করে তা ইহকাল বলে বিবেচিত হয়। সে শক্তির প্রভাব বহন করে নিয়ে চলে জীবনের লক্ষন রহিত হবার পরেও অর্থাত পরকালে।প্রশ্ন আসে কিভাবে!উত্তর স্বরূপ বলি মহামানব গন যে কর্ম করে গেছেন তা শ্রদ্ধার সাথে যুগ যুগ ধরে স্বীকৃত হচ্ছে, বর্তমান জীবনের উন্নত কর্ম মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে অর্থাত পরকালে প্রভাব বিস্তার করে যার ফলাফলে সে পায় আরও উন্নত মানের জীবন বা জীবনী শক্তি। পঞ্চ ভূতে বিলীন হয়ে যাওয়া জীবনের শক্তি/আত্মার শক্তি বাযুর ইথার মাধ্যমে ভাসতে থাকে যা দেহে প্রবেশ করে ,ইহকালের কর্ম অনুসরণ করে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আজকের মনের কথা অনুষ্ঠানে আমি মাধবী রায় আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বলে আজকের বিষয় -- "যদি কোনদিন আপনার সামান্য কোন সমস্যা না আসে, আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনি ভুল পথে হাঁটছেন।"জীবন পথ ,মখমলের চাদর বিছানো না,কাঁটার আস্তারনে আচ্ছাদিত।এ সত্য জীব কুলের প্রত্যেক জীবের জন্যই চরম রূপে প্রযোজ্য। আমি দেখি রাস্তার কুকুর গুলো প্রাকৃতিক কারনে (প্রখর দাবদাহ, জল প্লাবন, ঝর-তুফান) কত কষ্ট পায় ।এই কষ্ট সহ্য করেও কোনও কোনও কুকুর সহ্য মাত্রা বৃদ্ধি করে বেঁচে যায়, বেশিরভাগ মারা যায়। এতো গেলো শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যা।মানুষ বুদ্ধি করে বিঙগানের দানে এই শারীরিক সমস্যার সমাধান অনেক আগেই সামগ্রিক ভাবে করে ফেলেছে। তবুও নতুন নতুন রোগের সমস্যা মানুষকে কাবু করতে এগিয়ে আসছে ,তাও মানুষ বুদ্ধি বলে বিঙগান কে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন রোগের প্রকোপ থেকে নিজেদের বাচার পথ বের করছে।মানুষের অধিক সমস্যা তৈরি করে মানুষ ই,যা মানুষের মনকে দূর্বল করে দেয়, মানুষ ভেঙে পড়ে। এসময় ভেঙ্গে পড়া উচিত না।কারণ আমার উত্তম ইচ্ছা শক্তিকে,ঈর্ষা করেই সে খারাপ আচরণ করছে ,এটা আমাকে বুঝতে হবে। আমি যে সঠিক পথে চলছি তা পরিমাপের স্কেল হল ঐ মানুষের দেওয়া খারাপ আচরণ। যে জীবনে যত বেশী সফল তত বেশী সে সমস্যার সম্মুখীন হয়। প্রাকৃতিক সমস্যার অধিকর্তা প্রকৃতি।সামাজিক যে সমস্যার মাধ্যমে, আমরা সমাজের অনুমোদিত সঠিক জীবন পথ চিনতে শিখি সে সমস্যার অধিকর্তা সমাজের মানুষ। পারিবারিক পরিবেশে আত্মীয়দের দেওয়া সমস্যা ,সমাধান করতে দেখেছি বাবা-মাকে। এতে আমিও শিখেছি সমস্যা সংকুল পথে নিজেকে কদর করতে ।বিদ্যালয়ের সহপাঠীর বাকা কথার সমস্যা বুঝিয়ে ছিল , আমি পড়াশোনায ওর থেকে এগিয়ে, সঠিক পথে আছি।বিবাহ পরবর্তী জীবনে শ্বশুর বাড়ির পরিজনদের আঘাত দেওয়া সমস্যা বুঝতে শিখিয়েছে, ওরা আমার সাথে কোনও কিছুতেই এটে উঠতে পারছে না।ওদের সাথে শান্তি পূর্ণ সহাবস্থান করার তাগিদে নিজের সঠিক বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেও ,উপ ইচ্ছার সংস্কার করেছি।চিনেছি সঠিক পথ।কর্ম জগতে সহকর্মীদের বাকা দৃষ্টি, বাকা কথা আমাকে কাজের সঠিক দিশা দেখিয়ে সঠিক কর্মী হবার সুযোগ করে দিয়েছে।সন্তান বড় করতে গিয়ে নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হযে, অনেক নতুন জিনিস শিখলাম ও শিখছি।আরও নতুন সমস্যার সম্মুখীন হযে সমাধান করার জন্য হাত বাড়িয়ে আছি।আসলে এটা আমার চাওয়া না, জীবনের অনিবার্য বৈশিষ্ট্য সমস্যার আগমন। আর ঐ সমস্যা সমাধান করে বা প্রয়োজনে সমস্যা এড়িয়ে ,এগিয়ে চলার নাম জীবন। আজকাল তো মানুষের শারীরিক ভাষাতেই বুঝতে শিখে গেছি মানুষটি আমার জীবনের জন্য অভিশাপ না আশীর্বাদ!!সমস্যা পজেটিভ /নেগেটিভ যাই হোক আসুক, শিখি /এড়িয়ে চলি!!ধন্যবাদ জানাই,অভিনন্দন গ্রহন করুন।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখিবিষয়- একাকীশিরোনাম- সংসার সমুদ্র কলমে- মাধবী রায়তারিখ-23/05/2021সংসার সমুদ্রে সাঁতার কাটছি,সমস্যার ঢেউ এগোতে দিচ্ছে কই!পিছিয়ে পড়তে পড়তে মাঝ সমুদ্রে, তবু সাঁতার কাটছি, কাঁদছি!!জীবন দেবতা - পারে বসে ,আমার টেনসাইল স্টেরনথমাপা শেষ করলেন।তুমি এলে নাবিক হয়ে, পারে উঠলাম দুজনে।সংসারের প্রাত্যহিকতাপ্রমাণ করল,আমরা সবাই একা!বেরিয়ে পড়লাম একা একাই অনন্ত সত্য সন্ধানে!গভীর জঙ্গলে ঝলমলে আলো,ভৈরব ঈশ্বর! সবাই একাকী,সকলের মঙ্গল করো।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
"একই বৃন্তে দুটি কুসুম " পরিবারের এডমিন প্যানেল একটি মনোরম অনুষ্ঠানের অবতারণা করেছেন, যার নাম "মনের কথা কই "।আজকে মনের কথা বলার বিষয় - "প্রেম সমস্ত আবেগের মধ্যে সবচেয়ে সার্থপর "।উপরোক্ত লাইনটি সবৈব ভাবে সত্য। এ সত্য শুধুই যুবক - যুবতীর জন্য ই না, যে কোন স্তরের প্রেমের জন্য ই প্রেমাবেগ সবচেয়ে সার্থপর।তাই তো একটি বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত কথা শুনে থাকি - যার যেখানে মজে মন ,কিবা হাড়ি কিবা ডোম। প্রেমাবেগ ভালোমন্দ বোধের বাইরে নিয়ে চলে মনকে।লাভ-লোকসান কতোটুকু বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে সে নিয়েও প্রেমিক মন চিন্তিত হয় না।প্রেমাবেগে আক্রান্ত সার্থপর মন শুধুই চায়, প্রেমাসপদের সাথে মিলন।মানুষ যখন পশুর প্রেমে পড়ে তখন অবলা ঐ বেড়াল বা কুকুরের ভালো মন্দ নিয়ে এত সার্থপর হয়ে ওঠে, যে অন্য প্রজাতির একটা জীব যেন স্বজাতির বোবা সন্তানের রূপ নেয়। আমার ঘরে একটা দেশি কুকুর আছে,বাইরে আরও ছটা কুকুর আছে ,যখন ঝড় বৃষ্টির জন্য বাইরের কুকুর গুলো খুব কষ্ট পায়, আমি লুকিয়ে ঘরে তুলে আনি।ঘরের অন্যান্য সদস্যদের চোখে পড়লে,তুমুল তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। ওদের সঠিক মর্যাদা দিতে না পারার জন্য ভীষণ কষ্ট পাই।অবসরপ্রাপ্ত হলে সুযোগ পাব ওদের ঘর বানানোর। ঈশ্বর প্রেম ই বা কম সার্থপর কোথায়! পরিবার পরিজন ছেড়ে তাদের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য পালন না করে, ঈশ্বর কে নিবিড় করে পাবার আশায় সংসার ত্যাগ করলেন নিমাই। বর্তমানে ফেসবুক মাধ্যমে আমরা সবাই কৃপাকর নন্দ জীর কথা জানি, যিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং চিকিৎসা বিদ্যা অর্জন করেছেন অতীব যোগ্যতার সঙ্গে। তিনিই ,সার্থপরের মত মা বাবাকে ত্যাগ করে,ঈশ্বরের আরাধনায যুক্ত হলেন, ঈশ্বর প্রেমে মাতোযারা হয়ে। এডমিন প্যানেলের দেওয়া বক্তব্য প্রাধান্য পাওয়ার ই কথা।অবশেষে আমি মাধবী রায় নমস্কার জানিয়ে ইতি টানছি।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছড়া ও কবিতাশিরোনাম- মাকলমে- মাধবী রায় 24/05/2021বসুন্ধরা মায়ের কোলেসবুজ শস্য খেত দোলে, গঙ্গার জল ঢেউ তোলে।বসুন্ধরা মা মাথায় হিমালয় বহন করেও প্রাণবন্ত, ক্লান্তি হীন।মা মাত্রেই ক্লান্তি হীন, প্রাণবন্ত ,সন্তান সুখে কর্ম ব্যস্ত !সন্তান মানেই মায়ের হাসিভরা মুখ।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছড়া ও কবিতা শিরোনাম- মা কলমে- মাধবী রায় 24/05/2021 বসুন্ধরা মায়ের কোলে সবুজ শস্য খেত দোলে, গঙ্গার জল ঢেউ তোলে। বসুন্ধরা মা মাথায় হিমালয় বহন করেও প্রাণবন্ত, ক্লান্তি হীন। মা মাত্রেই ক্লান্তি হীন, প্রাণবন্ত , সন্তান সুখে কর্ম ব্যস্ত ! সন্তান মানেই মায়ের হাসিভরা মুখ।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখিবিষয় - নিজেকেশিরোনাম- গন্ধ বাহনকলমে - মাধবী রায় তারিখ- 16/5/2021মধ্য রাতের মৃদু মন্দ বাতাসের মাঝে,আমি এসে দাঁড়ালাম ছাদ বাগানের সুগন্ধী, শুভ্র জুই ,বেলি,গন্ধরাজের মাঝে। গন্ধ তো পাচ্ছি না!!আতঙ্কিত আমি ,ঠাকুর - দেবতা স্মরণ করছি মনে,সন্ধ্যার অক্ষয় তৃতীয়ার শঙ্খ নাদকানে বাজছে,এ মধ্য রাতে!!নতজানু ও করজোডে গন্ধ ভিক্ষা চাইলাম,বেল, জুই, গন্ধরাজের কাছে।বললাম একটু গন্ধ দাও,দাও একটু গন্ধ!!আর কিছুকাল বাঁচি।সুগন্ধ! দুর্গন্ধ! বাছাই করছি না,চলমান জীবনের নিশ্চয়তা চাইছি।অ্যাম্বুল্যান্স, শববাহী গাড়ির দ্রুত গতি,জন-মানব শূন্য পথে।গভীর বিষাদে বিষাক্ত মেদিনী ,শুষ্ক পাতা পড়লে,গোঙগানীর শব্দ তুলছে!!!বিরহ বিদায় নিয়েছে, বিচ্ছেদ যন্ত্রনা শিরা - উপশিরা থেকে রক্তের ফিনকি তুলছে- আমার, তোমার সকলের। ভয়ংকর ভয়ে ভীষণ গরম লাগছে,অথচ কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টিপাত হল,জলে ধোয়া গন্ধরাজের কাছে গেলাম, গন্ধ নেব বলে,আকাশে খুশীর ঈদের চাঁদের আলোয়, আনন্দিত ঝিঝি পোকা, ব্যাঙ সুন্দর ডাকছে।দূরে দেখি এক হুতুম পেঁচা কি যেন কি বসে বসে খাচ্ছে ।অদ্ভুত ভয় ধরা সুরে ডাকছে!!জীবনের ভয় - ডর লাগছে !!!ঈদের চাঁদ, অক্ষয় শঙ্খ নাদসাহস জাগায়!!বসুন্ধরা মা, প্রণাম তোমায়।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখিবিষয় : পরিচয়শিরোনাম : বিশ্বমাতা ও প্রেম কলমে : মাধবী রায় তারিখ : 08/05/21বিশ্ব মায়ের কোলে, কত পশু-পাখী ,মানব -মানবিহেসে - খেলে বাঁচেবিভেদ হীন প্রেম ও সম অধিকারে।।কিন্তু হায়!!!মানব জাতি!!!নিজের অধিকার পূর্ণ করে শেষেমন দিল,বন সংহারে!নগর গড়ল!!প্রেম হীন , তৃপ্তি হীন লালসা !!গাছ-গাছালীর অভাব বড় !বানর মা শিশু কোলে পাঁচিলে, ইট আর কংক্রিটের মাঝেই ,খাবার খোঁজে,বাচার ও বাঁচানোর চেষ্টায়। মানব শিশুর অবাক আনন্দ!!!বানর শিশুর জন্য !!অবোধ মানব শিশুকেমা কোলে নিয়ে, মৃদু হাসি মেখে বলে,ছেলে তুই বড় হলে,দুজন মিলেগাছ লাগাবো, ফল ফলবে নানান বাহার। পাবে ওরা ওদের খাবার, ফিরে পাবে ওদের বাড়ি।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখি বিষয় --- মা আমার মা। শিরোনাম ---- ঈশ্বর মা, আমার মা, তোমার দুঃখের ঘরানা, হাসতে হাসতে দুঃখ গুলোকে কাদতে দিতে না আদর করেই রাখতে। আমার সর্বংসহা মা। সহ্য শক্তির মহান নিশানা। গ্রীষ্মের চরম দাবদাহ , জ্বলন্ত কাঠের তেজে টগবগ করে ফুটছে ভাত। ফুটছ তুমিও ,কাউকেই বুঝতেই দিচ্ছ না। খাব খাব বলে জড়িয়ে ধরেছি, কোলে নাও বলে বায়না করেছি। কষ্টে ,তোমার চোখে জল এসেছে , কেন বুঝতেই দিচ্ছ না!!! ভিতরে - বাইরে নিজেকে শুকিয়ে সংসারী অথচ সন্ন্যাসীর রূপ ধারণ করেছ। ভয়ে - লজ্জায়, ত্যাগে- তেজে মা আমার, ঈশ্বর-ই তো হয়েছে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
সহ্যমাধবী রায়বসন্ত বাতাস, পূর্ণিমার চাঁদ, কাঠাল চাপা আর ভালোবাসার শুভ্র বেলির সুগন্ধ আমোদিত আমি।বাসন্তী বাতাসে ভেসে আসছে রবীন্দ্র নাথের গান, "আজই দক্ষিন দুয়ার খোলা, এসো হে এসো হে আমার বসন্ত এসো।"বসন্ত উৎসব হচ্ছে কোথাও ?বসন্ত উৎসব মানে হৃদয়ে অকারণ খুশির দোলা। বসন্ত উৎসব মানেঅশুভর বিরুদ্ধে শুভর জয় ঘোষনা।রাত বাড়ছে, কিন্তু ঋতু তার চরিত্র বদলায়নি। অথচ রাতের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সময়, মনন। কানে আসছে টুম্পা সোনা একটা হম্পি দেনা, সাথে চলছে উদ্দাম নৃত্য ! চারপাশের কুকুরেরা প্রচণ্ড শব্দে কাঁপছে,কাঁদছে। সারাদিন এক নাগাড়ে ডেকে চলা কোকিলটা অসহায়।গানের বিকট শব্দ অস্থির করছে আমায়, বসন্ত উৎসবের ফ্ল্যাশ লাইটে দেখলাম মানুষের নির্লজ্জ অমানবিক রূপ। রাস্তার পাশের ফুটপাথের ঘুমাতে না পারা বৃদ্ধ গাইছে, "রোদন ভরা এ বসন্ত, কখনো আসেনি বুঝি আগে।"রাত যত বাড়ছে ডেসিবেল তত বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সংবেদনশীল এক অনুষ্ঠানের সফিসটিকেটেড কর্মকর্তাদের বাদরামো নিয়ম অনুযায়ী নীতির তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যাচ্ছে ! সবাই সহ্য করছে ভয়ে। এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করে গেছেন রাজ্যের সম্মানীয় মন্ত্রী, স্টেজ আলো করে আছেন বিশিষ্ট জনেরা। একজন গান ধরেছেন "খেলব হোলি রঙ দেব না তাই কখনও হয়। " বিছানায় রোগী কষ্ট পাচ্ছে, শিশুর ঘুমের সুযোগ নেই তবুও কোনও প্রতিবাদী মুখ কর্মকর্তাদের সামনে এগিয়ে আসতে পারছেনা। অনুষ্ঠানের মাঠ ঘেরাও করা হয়েছে কঠিন টিনের বেষটনীতে, দ্বারে সশস্ত্র রক্ষী। সফিসটিকেটেড শিল্পীর সাধের বসন্ত উৎসবকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতার শেষ নেই। আরদর্শক আসনে বসে আছেন যারা তারাইতো সমাজের প্রকৃত নাগরিক, সংস্কৃতির ধারক বাহক !অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পীরা সব ঘরের দিকে, বিশিষ্ট জনেরা গাড়ির কাছে যাবেন বলে দ্বার রক্ষী দ্বার উন্মুক্ত করছেন ঠিক সেই সময়েই এক বৃদ্ধ দ্বারের পাশে বসে, সাদা আর্ট পেপারে লিখেছেন : "বসন্ত তুমি ফিরে যাও আমার আঙিনা মুক্ত করেআমি বদ্ধ ঘরেই আছি ভালোতীব্র অন্ধকারে।"
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
শিরোনাম - কদরশ্রীচরনেষু তুমি কেমন আছো মা?আজ তুমি জিতেছ মা।অবাক হচছ নাকি ভয়ংকর ভয় পাচছ? জানি জেতা বা হারা নিয়ে তোমার কোন তাপ উত্তাপ নেই!তোমার শুধুই চিন্তা প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার। এক কথায় নিজের সব ইচ্ছা অনিচ্ছাকে জলাঞজলী দিয়ে অ্যাডজাষট করা!!! আর আমাকে নিয়েই তোমার ভয় - কারন ভুল কে ভুল বলতে আমার ভয় ডর নেই।কত শিখিয়েছ মেয়েদের কি কি করতে নেই! তবু আমি শিখিনি!! তোমার জয় হয়েছে মা, সে কথা বলব ,আগে তুমি নিজেকে কত ভাবে বঞ্চিত করেছ, কিভাবে সমস্ত ফাই ফরমাশ মেনে সারাদিন বাসন মেজে ,রান্না করে সবার মুখের সামনে খাবার তুলে দিয়ে নিজেকে যন্ত্র বানিয়েছ, নিজেই তুমি নিজেকে কদর করতে ভুলেছ সে কথাই প্রথম বলি।মা ,তোমার স্মৃতি গুলো কেমন এলোমেলো হয়েছে, সব ভুলে যাও তুমি ,ডাক্তার বাবু বলেছেন ঠিক করা খুবই অসম্ভব। আমাদের একান্ন বর্তি পরিবারের সদস্যদের একত্রিত রাখার জন্য কত কত বঞ্চনা ,লাঞ্ছনাকে তুমি মাথা পেতে নিয়েই ,ভুলে যাওয়া অনুশীলন করেছ। আজ এত আদরে থেকেও সব ভুলেছ, অনুশীলনের কত গভীরতা ভাবি! কাক ভোরে ঘুম থেকে উঠে ,উঠোনে গোবর গোলা জল ছিটিয়ে, তুলসী তলা নিকিযে, আগের দিনের বাসী কাপর ছেড়ে স্নান করে তুমি ঢুকতে রান্নাঘরে।কয়লার উনুনে ঘুটে কয়লা পর পর সাজিয়ে নারিকেল গাছের পাতা ধরিয়ে আগুন ওঠার ব্যবস্থা করতে,পেজা তুলোর মত ধোয়া বেরোত ।তুমি ঠিক জানতে ধোয়া শেষে কখন গনগনে আগুন বেরোবে!এর ফাঁকে আমাকে ঘুমের থেকে তুলে, আগের দিনের হাড়ি- কডাই -থালা নিয়ে পুকুরের জলে ডুবিয়ে দিতে,সহজেই পরিষ্কার হবে বলে।সঙ্গে সঙ্গেই এক ঝাঁক ছোট্ট ছোট্ট মাছ সাঁতার দিয়ে ওই বাসন জমা হত আর খুঁটে খুঁটে বাসনে লেগে থাকা খাবার গুলো খেত,তুমি মাঝে মাঝেই বাসন মাজা বন্ধ করে,ওদের আনন্দ উপভোগ করতে উদাস হয়ে, তোমার চোখে এক চিলতে হাসি লেগে থাকত। আমাকে পুকুরের পাড়ে বসিয়ে রাখতে। আমার সব মনে আছে মা।একান্ন বর্তী পরিবারের সদস্যদের তোমার প্রতি অবহেলা, তোমার দুঃখের নিজস্ব মৌনতা আমাকে অনেক ছোট বযসেই সংবেদনশীল করে তোলে। সারাদিন সারাবছর এত বার পুকুরে যাতায়াত করতে হয়েছে যে পুকুরের জল কেই মনে হয় ভেবে নিয়েছ সমুদ্রের জলের রূপে।তাই মনে হয় সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করোনি। পুকুর থেকে ফিরে এসে তাল পাতার পাখার বাতাসে গনগনে আগুন আনতে উনুনে।চা ও জলখাবার বানাতে তুমি ।একে একে ঘুম থেকে উঠত সবাই। ঠাকুর মা আগেই উঠতে চাইত, দুই পিসি উঠতে দিত না। ঠাকুর দা তোমায় একটু স্নেহ ই করত, তবে পিসি কাকুদের লুকিয়ে। জলখাবারে কোন ত্রুটি হলে কত কথাই না শোনাতো পিসিরা।সেদিন থেকেই বুঝেছি মেয়েদের শ্রমের কদর করতে দেয়নি মেয়েরা। এ যেন এক কঠিন পরম্পরা, যার সৃষ্টি মেয়েদের দ্বারা। অথচ তোমার কোনও উত্তর ছিল না।কারোর কাছে অভিযোগ করোনি কোনদিন!!দুপুরের রান্নার পর সবার খাবার শেষে তুমি বসতে খাবার নিয়ে কেউ একটুও ভাবত না মা তুমি খেলে কিনা!আমাকে অবশ্য ভালোই বাসত, পাশে নিয়ে শুতো,কখনও কখনও কোলে নিত।তোমার নামে নিন্দা করত আমার কাছে, আমি কারন বুঝতাম না,ওদের কাছে জানতে চাই নি কারন, কোনদিন। একদিন সহ্য করতে না পেরে, তোমার কাছেই জানতে চেয়েছিলাম তোমার কদর হীন হয়ে থাকার কারণ। তুমি বলেছিলে বড়দের কথার মধ্যে ছোটদের থাকতে নেই। ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো মনের মানুষ হও। আদর, অনাদর, কদর কখন , কে কাকে করে নিজেই বুঝতে পারবে। তোমার শ্রমের ওপর নির্ভর করে দুই কাকু চাকরী পেল, প্রথম মাসের মাযনা পেয়ে বাসা ভাড়া করে চলে গেল। পিসি দুজনের বিয়ে হল পয়সাওলা ঘরে।তবু ওদের রাগ কমল না ,তোমার ওপর থেকে।বরং অত্যাচার এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করল অর্থনৈতিক অহংকার, প্রতি বাক্য বানে বুঝিয়ে দিত বাবা ও তোমার আর্থিক দুর্বলতার কারনে আমরা ভাই বোনেরা মানুষ হবার আগেই শেষ হয়ে যাব!বাবা অসুস্থ হল, কর্ম শক্তি হারালো,কেউ একদিন জানতে চাইল না বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করছি আমরা কিভাবে!তখন আমার বয়স ঠিক একুশ, সারাদিন ছাত্র পড়াই, বাবার জমানো টাকার সুদ পাই ,তা দিয়েই আমাদের সরল জীবন আর বাবার চিকিৎসা চলে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ওদের সাথে।ঠাকুর মা গত হবার পর ,ঠাকুর দা বিধ্বস্ত,কয়েক মাস পর দাদুও গত হলেন। বিগত বছরের দেওয়া নেওয়ার কথা ওরা ভুললেও আমি ভুলতে পারি নি।আমি তোমার ও বাবার আশীর্বাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার চাকরি পেলাম। ভাই একটা চাকরি পেল।সংসারের শ্রী ফিরল। আমায় সংসারী করলে।আমার বয়স 53 হল,আমার সংসারের বয়স 22 হল।কোথা থেকে আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে আমাকে ফোন করে ছোট পিসি।আমাদের সবার খবর নিলো।আমার কথা বলতে মন চাইছিল না।ভদ্রতার কদর কতটা বোঝানোর জন্যই কথা বললাম। বলল কোনও মেয়েই সঠিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নি।ছোট পিসির ছোট মেয়েটা মানসিক ভাবে অসুস্থ। এক ফাঁকে ঠিক তোমার নিন্দা করতে ছাড়ল না।আমি দৃঢ় অথচ শান্ত গলায় জানালাম -- পিসি ,আমার মা কিন্তু কোনদিন তোমাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ কারও কাছে এমনকি আমাদের কাছেও করল না।আমার মধ্য 53 বছর বয়সে তোমাকে আর বেশিকিছু বলতে চাই না।কি জানি কি ভাবল, কি ই বা বুঝল আজ আবার ফোন করে ভুল স্বীকার করল,তোমার বেশ কিছু গুনের কথা মনে করালো আমায়। ঘুট ঘুটে অন্ধকার জীবনে চাঁদের আলোয় যে স্বপ্ন বুনতে, তা সফল এখন। রাত টুকু তোমার নিজের ছিল মাকত কবিতা লিখতে অভাবের কেরোসিন আলোয় লুকিয়ে লুকিয়ে। আজ তো তোমার অভাব নেই, হচারিদিকে আলো ।ঈশ্বর তোমাকে জিতিযে দিয়েছে, ভয় করা অভ্যাস ছাড়, স্মৃতিকে আনো জয়ের কবিতা লেখ ,নিজের কদর নিজে করো। ইতিতোমার মেয়ে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
শিরোনাম - কদর শ্রীচরনেষু তুমি কেমন আছো মা?আজ তুমি জিতেছ মা।অবাক হচছ নাকি ভয়ংকর ভয় পাচছ? জানি জেতা বা হারা নিয়ে তোমার কোন তাপ উত্তাপ নেই!তোমার শুধুই চিন্তা প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার। এক কথায় নিজের সব ইচ্ছা অনিচ্ছাকে জলাঞজলী দিয়ে অ্যাডজাষট করা!!! আর আমাকে নিয়েই তোমার ভয় - কারন ভুল কে ভুল বলতে আমার ভয় ডর নেই।কত শিখিয়েছ মেয়েদের কি কি করতে নেই! তবু আমি শিখিনি!! তোমার জয় হয়েছে মা, সে কথা বলব ,আগে তুমি নিজেকে কত ভাবে বঞ্চিত করেছ, কিভাবে সমস্ত ফাই ফরমাশ মেনে সারাদিন বাসন মেজে ,রান্না করে সবার মুখের সামনে খাবার তুলে দিয়ে নিজেকে যন্ত্র বানিয়েছ, নিজেই তুমি নিজেকে কদর করতে ভুলেছ সে কথাই প্রথম বলি। মা ,তোমার স্মৃতি গুলো কেমন এলোমেলো হয়েছে, সব ভুলে যাও তুমি ,ডাক্তার বাবু বলেছেন ঠিক করা খুবই অসম্ভব। আমাদের একান্ন বর্তি পরিবারের সদস্যদের একত্রিত রাখার জন্য কত কত বঞ্চনা ,লাঞ্ছনাকে তুমি মাথা পেতে নিয়েই ,ভুলে যাওয়া অনুশীলন করেছ। আজ এত আদরে থেকেও সব ভুলেছ, অনুশীলনের কত গভীরতা ভাবি! কাক ভোরে ঘুম থেকে উঠে ,উঠোনে গোবর গোলা জল ছিটিয়ে, তুলসী তলা নিকিযে, আগের দিনের বাসী কাপর ছেড়ে স্নান করে তুমি ঢুকতে রান্নাঘরে।কয়লার উনুনে ঘুটে কয়লা পর পর সাজিয়ে নারিকেল গাছের পাতা ধরিয়ে আগুন ওঠার ব্যবস্থা করতে,পেজা তুলোর মত ধোয়া বেরোত ।তুমি ঠিক জানতে ধোয়া শেষে কখন গনগনে আগুন বেরোবে!এর ফাঁকে আমাকে ঘুমের থেকে তুলে, আগের দিনের হাড়ি- কডাই -থালা নিয়ে পুকুরের জলে ডুবিয়ে দিতে,সহজেই পরিষ্কার হবে বলে।সঙ্গে সঙ্গেই এক ঝাঁক ছোট্ট ছোট্ট মাছ সাঁতার দিয়ে ওই বাসন জমা হত আর খুঁটে খুঁটে বাসনে লেগে থাকা খাবার গুলো খেত,তুমি মাঝে মাঝেই বাসন মাজা বন্ধ করে,ওদের আনন্দ উপভোগ করতে উদাস হয়ে, তোমার চোখে এক চিলতে হাসি লেগে থাকত। আমাকে পুকুরের পাড়ে বসিয়ে রাখতে। আমার সব মনে আছে মা। একান্ন বর্তী পরিবারের সদস্যদের তোমার প্রতি অবহেলা, তোমার দুঃখের নিজস্ব মৌনতা আমাকে অনেক ছোট বযসেই সংবেদনশীল করে তোলে। সারাদিন সারাবছর এত বার পুকুরে যাতায়াত করতে হয়েছে যে পুকুরের জল কেই মনে হয় ভেবে নিয়েছ সমুদ্রের জলের রূপে।তাই মনে হয় সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করোনি। পুকুর থেকে ফিরে এসে তাল পাতার পাখার বাতাসে গনগনে আগুন আনতে উনুনে।চা ও জলখাবার বানাতে তুমি ।একে একে ঘুম থেকে উঠত সবাই। ঠাকুর মা আগেই উঠতে চাইত, দুই পিসি উঠতে দিত না। ঠাকুর দা তোমায় একটু স্নেহ ই করত, তবে পিসি কাকুদের লুকিয়ে। জলখাবারে কোন ত্রুটি হলে কত কথাই না শোনাতো পিসিরা।সেদিন থেকেই বুঝেছি মেয়েদের শ্রমের কদর করতে দেয়নি মেয়েরা। এ যেন এক কঠিন পরম্পরা, যার সৃষ্টি মেয়েদের দ্বারা। অথচ তোমার কোনও উত্তর ছিল না।কারোর কাছে অভিযোগ করোনি কোনদিন!! দুপুরের রান্নার পর সবার খাবার শেষে তুমি বসতে খাবার নিয়ে কেউ একটুও ভাবত না মা তুমি খেলে কিনা!আমাকে অবশ্য ভালোই বাসত, পাশে নিয়ে শুতো,কখনও কখনও কোলে নিত।তোমার নামে নিন্দা করত আমার কাছে, আমি কারন বুঝতাম না,ওদের কাছে জানতে চাই নি কারন, কোনদিন। একদিন সহ্য করতে না পেরে, তোমার কাছেই জানতে চেয়েছিলাম তোমার কদর হীন হয়ে থাকার কারণ। তুমি বলেছিলে বড়দের কথার মধ্যে ছোটদের থাকতে নেই। ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো মনের মানুষ হও। আদর, অনাদর, কদর কখন , কে কাকে করে নিজেই বুঝতে পারবে। তোমার শ্রমের ওপর নির্ভর করে দুই কাকু চাকরী পেল, প্রথম মাসের মাযনা পেয়ে বাসা ভাড়া করে চলে গেল। পিসি দুজনের বিয়ে হল পয়সাওলা ঘরে।তবু ওদের রাগ কমল না ,তোমার ওপর থেকে।বরং অত্যাচার এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করল অর্থনৈতিক অহংকার, প্রতি বাক্য বানে বুঝিয়ে দিত বাবা ও তোমার আর্থিক দুর্বলতার কারনে আমরা ভাই বোনেরা মানুষ হবার আগেই শেষ হয়ে যাব! বাবা অসুস্থ হল, কর্ম শক্তি হারালো,কেউ একদিন জানতে চাইল না বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করছি আমরা কিভাবে! তখন আমার বয়স ঠিক একুশ, সারাদিন ছাত্র পড়াই, বাবার জমানো টাকার সুদ পাই ,তা দিয়েই আমাদের সরল জীবন আর বাবার চিকিৎসা চলে।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল ওদের সাথে। ঠাকুর মা গত হবার পর ,ঠাকুর দা বিধ্বস্ত,কয়েক মাস পর দাদুও গত হলেন। বিগত বছরের দেওয়া নেওয়ার কথা ওরা ভুললেও আমি ভুলতে পারি নি। আমি তোমার ও বাবার আশীর্বাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার চাকরি পেলাম। ভাই একটা চাকরি পেল।সংসারের শ্রী ফিরল। আমায় সংসারী করলে। আমার বয়স 53 হল,আমার সংসারের বয়স 22 হল। কোথা থেকে আমার ফোন নম্বর জোগাড় করে আমাকে ফোন করে ছোট পিসি। আমাদের সবার খবর নিলো।আমার কথা বলতে মন চাইছিল না।ভদ্রতার কদর কতটা বোঝানোর জন্যই কথা বললাম। বলল কোনও মেয়েই সঠিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় নি।ছোট পিসির ছোট মেয়েটা মানসিক ভাবে অসুস্থ। এক ফাঁকে ঠিক তোমার নিন্দা করতে ছাড়ল না। আমি দৃঢ় অথচ শান্ত গলায় জানালাম -- পিসি ,আমার মা কিন্তু কোনদিন তোমাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ কারও কাছে এমনকি আমাদের কাছেও করল না।আমার মধ্য 53 বছর বয়সে তোমাকে আর বেশিকিছু বলতে চাই না। কি জানি কি ভাবল, কি ই বা বুঝল আজ আবার ফোন করে ভুল স্বীকার করল,তোমার বেশ কিছু গুনের কথা মনে করালো আমায়। ঘুট ঘুটে অন্ধকার জীবনে চাঁদের আলোয় যে স্বপ্ন বুনতে, তা সফল এখন। রাত টুকু তোমার নিজের ছিল মা কত কবিতা লিখতে অভাবের কেরোসিন আলোয় লুকিয়ে লুকিয়ে। আজ তো তোমার অভাব নেই, হচারিদিকে আলো । ঈশ্বর তোমাকে জিতিযে দিয়েছে, ভয় করা অভ্যাস ছাড়, স্মৃতিকে আনো জয়ের কবিতা লেখ , নিজের কদর নিজে করো। ইতি তোমার মেয়ে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখি বিষয় : চাষ করি আনন্দে শিরোনাম : চাষার ছেলে কলমে : মাধবী রায় চাষার ছেলে দুঃখে -কষ্টে কৃষিবিদ বটে!!! সলতে পাকিয়ে ,চাষার ঘরে সম্মানিত দীপ জ্বালবে! বঞ্চনার জ্বলন্ত শিখা বুকে চেপে, চাষার ছেলে ,মাঠে নামে হেসে হেসে। প্রকৃতি, বুকে প্রেমের হাত পেয়ে, বৃষ্টি ঝরায , বাতাসের ঢেউ তোলে ফসল ভরে যায় মাঠে। হলুদ টিশার্ট, জিন্সের প্যান্ট, প্রখর তাপে ঘামে ভেজা চাষার ছেলের সোনার বর্ণ দেহ। মাড়াই মেশিনে ধানের আঁটি ঝেড়ে গোলা পূর্ণ করে, সোনার ফসলে। বাপ - দাদার মনে ,সাহস আনে চাষার ছেলে ঋজু স্বরে বলে, আনব ফিরিয়ে চাষার হৃত সম্মান , আর না ,মধ্যবর্তী ফোরের চক্করে। ন্যায্য মূল্যে ফসল বিকোব, চুপ করে আর থাকব না। ব্যারিকেট গড়ে তুলব!!!
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
শুধু তোমার জন্য
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
ছবি দেখে কবিতা লিখি বিষয় : শুধু তোমার জন্যে বিভাগ : কবিতা শিরোনাম : প্রিয় তোমার কাছে যাব প্রিয় , তোমার কাছেই যাব। তুমি ময় এ জীবন কেবল , তোমার প্রতীক্ষায়। যেদিন প্রথম প্রেমে পড়লাম , "ওঁ হরি ওঁ " ধ্বনি সাথে খোল করতাল বাজছে, শুনলাম। সোনার বর্ণ তুমি , তারাদের সাথে খেলতে খেলতে মেঘের কোলে লুকিয়ে পড়ছ অবলীলায়। আর আমি !ব্যর্থ প্রেমিকা ! পূর্ণিমার সোনালি আলো মেখে ,গোলাপ বাগিচায,তোমার প্রতীক্ষায়। হঠাৎই, তারা খসতে দেখে, ভাবলাম তুমিও নেমেছ নিচে, ছুট লাগালাম তোমায় ধরব বলে নিবিড় ভাবে , নিজের করে নেব বলে!!! মিলিয়ে গেলে ,তুমি কোথায়! সেই সে ধ্বনি এখনও বাজছে। ব্যর্থ আমি! তোমায় জানাই, আকাশ বার্তায় - আমার অঙ্গে লাল রেশমের শাড়ি, হাতে গোলাপ আর সোনার চূড়ি, কেশপাশ পিঠের উপরে ,সুগন্ধ মাখা। ব্যথিত হৃদয়ে ,...
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
দুঃখ ও মানুষের সংলাপ মানুষ :- দুঃখ , তুমি কে? কি ই বা কাজ তোমার ? দুঃখ:- আমি কবি, আমি-ই জীবন! মানুষ:- দোহাই তোমায়, চলে যাও । দুঃখ:- ভয় পেলে চলবে না। আমিই আসল জীবন! তোমার জীবনের ভরসা!! মানুষ: -আবোল তাবোল না বলে! বল তুমি কে? দুঃখ:- আমি গ্রীষ্মের দাবদাহ, এক্কেবারে আগুন। মানুষ:- জ্বলে ছাই হব যে! ভয় লাগছে! কি থাকবে অবশিষ্ট আমার কাছে অবশেষে? দুঃখ:- না ,অনেক চেষ্টা করেও ছাই হলে না তুমি!! মানুষ :- তবে? দুঃখ: - আমার সাজানো মন্দিরে,একতাল পাথর হয়েছ তুমি। তোমার মধ্য দিয়েই পথ করে প্রবাহিত হচ্ছে ঝর্ণা ধারা। আজ নীল ষষ্ঠী । দুধে ,জলে ,ফুলে স্নান করাবে তোমায় আকাশ বাতাস ঘন্টার ধ্বনি তে হবে মুখরিত। প্রণাম তোমায়। আমি পরাজিত। মাধবী রায়। 13/04/2021
দুঃখ ও মানুষের সংলাপ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
দুঃখ ও মানুষের সংলাপ মানুষ :- দুঃখ , তুমি কে? কি ই বা কাজ তোমার ? দুঃখ:- আমি কবি, আমি-ই জীবন! মানুষ:- দোহাই তোমায়, চলে যাও । দুঃখ:- ভয় পেলে চলবে না। আমিই আসল জীবন! তোমার জীবনের ভরসা!! মানুষ: -আবোল তাবোল না বলে! বল তুমি কে? দুঃখ:- আমি গ্রীষ্মের দাবদাহ, এক্কেবারে আগুন। মানুষ:- জ্বলে ছাই হব যে! ভয় লাগছে! কি থাকবে অবশিষ্ট আমার কাছে অবশেষে? দুঃখ:- না ,অনেক চেষ্টা করেও ছাই হলে না তুমি!! মানুষ :- তবে? দুঃখ: - আমার সাজানো মন্দিরে,একতাল পাথর হয়েছ তুমি। তোমার মধ্য দিয়েই পথ করে প্রবাহিত হচ্ছে ঝর্ণা ধারা। আজ নীল ষষ্ঠী । দুধে ,জলে ,ফুলে স্নান করাবে তোমায় আকাশ বাতাস ঘন্টার ধ্বনি তে হবে মুখরিত। প্রণাম তোমায়। আমি পরাজিত। মাধবী রায়। 13/04/2021