সহ্যমাধবী রায়বসন্ত বাতাস, পূর্ণিমার চাঁদ, কাঠাল চাপা আর ভালোবাসার শুভ্র বেলির সুগন্ধ আমোদিত আমি।বাসন্তী বাতাসে ভেসে আসছে রবীন্দ্র নাথের গান, "আজই দক্ষিন দুয়ার খোলা, এসো হে এসো হে আমার বসন্ত এসো।"বসন্ত উৎসব হচ্ছে কোথাও ?বসন্ত উৎসব মানে হৃদয়ে অকারণ খুশির দোলা। বসন্ত উৎসব মানেঅশুভর বিরুদ্ধে শুভর জয় ঘোষনা।রাত বাড়ছে, কিন্তু ঋতু তার চরিত্র বদলায়নি। অথচ রাতের সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সময়, মনন। কানে আসছে টুম্পা সোনা একটা হম্পি দেনা, সাথে চলছে উদ্দাম নৃত্য ! চারপাশের কুকুরেরা প্রচণ্ড শব্দে কাঁপছে,কাঁদছে। সারাদিন এক নাগাড়ে ডেকে চলা কোকিলটা অসহায়।গানের বিকট শব্দ অস্থির করছে আমায়, বসন্ত উৎসবের ফ্ল্যাশ লাইটে দেখলাম মানুষের নির্লজ্জ অমানবিক রূপ। রাস্তার পাশের ফুটপাথের ঘুমাতে না পারা বৃদ্ধ গাইছে, "রোদন ভরা এ বসন্ত, কখনো আসেনি বুঝি আগে।"রাত যত বাড়ছে ডেসিবেল তত বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সংবেদনশীল এক অনুষ্ঠানের সফিসটিকেটেড কর্মকর্তাদের বাদরামো নিয়ম অনুযায়ী নীতির তোয়াক্কা না করেই চালিয়ে যাচ্ছে ! সবাই সহ্য করছে ভয়ে। এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করে গেছেন রাজ্যের সম্মানীয় মন্ত্রী, স্টেজ আলো করে আছেন বিশিষ্ট জনেরা। একজন গান ধরেছেন "খেলব হোলি রঙ দেব না তাই কখনও হয়। " বিছানায় রোগী কষ্ট পাচ্ছে, শিশুর ঘুমের সুযোগ নেই তবুও কোনও প্রতিবাদী মুখ কর্মকর্তাদের সামনে এগিয়ে আসতে পারছেনা। অনুষ্ঠানের মাঠ ঘেরাও করা হয়েছে কঠিন টিনের বেষটনীতে, দ্বারে সশস্ত্র রক্ষী। সফিসটিকেটেড শিল্পীর সাধের বসন্ত উৎসবকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতার শেষ নেই। আরদর্শক আসনে বসে আছেন যারা তারাইতো সমাজের প্রকৃত নাগরিক, সংস্কৃতির ধারক বাহক !অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পীরা সব ঘরের দিকে, বিশিষ্ট জনেরা গাড়ির কাছে যাবেন বলে দ্বার রক্ষী দ্বার উন্মুক্ত করছেন ঠিক সেই সময়েই এক বৃদ্ধ দ্বারের পাশে বসে, সাদা আর্ট পেপারে লিখেছেন : "বসন্ত তুমি ফিরে যাও আমার আঙিনা মুক্ত করেআমি বদ্ধ ঘরেই আছি ভালোতীব্র অন্ধকারে।"

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঋতু

অনুপ্রাণন

তুই