ফ্রেমে কান্ডারী মাধবী রায় ঘন ঘোর বর্ষার সকাল নাকি দুপুর ঠিক মনে নেই, বেতারে বাজছিল, "বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে" গান। অন্যান্য দিনে, মা সুরের সাথে গুন গুন করে গায়!সেদিন কেমন যেন আনমনা,গম্ভীর ছিল মা।আকাশ টা সত্যিই উদাসীন ছিল, আমি কারন বুঝতে পারছিলাম নাআমার বয়স ছিল নয়। বাবা,সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরেসজল নয়নে,মাথা নত করে বসলেন আমাদের চালা ঘরের মাটির দাওয়াতে।সাহস করে হাত রাখলাম বাবার কাঁধে, বললাম কি হোল তোমার!জল ভরা চোখে মৃদু স্বরে জানালেদুই বাংলার প্রিয় কবি নজরুল আজ পরকালে চললেন !আমি বললাম মানে!বাবা,নিশ্চুপ, উঠে দাঁড়ালে!এগিয়ে গেলেন ক্যালেন্ডারের কাছে।একমাথা ঝাঁকরা চুলে,ডাগর দুটি চোখের চাহনী ভরা ,তুমি নজরুল, ক্যালেন্ডারেও ছিলে। সেইরাতে, বাবা,তোমার তোমার ছবিকে ,ফ্রেমে বাধল নিজের হাতে।তোমার গলায় পরাল ফুলের মালা,সামনে জ্বালাল সুগন্ধী ধূপ। আমাকে বলল প্রদীপ জ্বালা।জ্বলন্ত প্রদীপ শিখায় দেখলাম,বাবা লিখেছেতোমার জীবনকাল --আসা- 25/05/1899যাওয়া -- 29/08/1976কবি তুমি ছবি হলে বটেলেখনীতে রয়ে গেলে, আমাদের মাঝেই। খুকি ও কাঠবিড়ালী পড়তে পড়তে তোমার কাছে চলে যেতাম, পাড়ি দিতাম অচিন পুরে।এসব অনেক আগের কথা।বড় হলাম, তোমাতেই আশ্রয় নিলাম। স্নেহ তুমি,প্রেমে তুমি,বিরহে তুমি,বিপদেও তুমিই দাও স্বান্তনা। আর একবার এসো কবি,এ আমার একান্ত প্রার্থনা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ঋতু

অনুপ্রাণন

তুই