রাখি বন্ধন
স্নেহের ভাই,
আজ রাখি বন্ধন,
তোর অবশ্য এই
উৎসব টুৎসব নিয়ে
মাথা ব্যথা নেই কোনো।
আমাদের অভাবের সংসারে
যদিও উৎসব টুৎসব
কোনদিন ই কোনো
আলাদা গুরুত্ব পায়নি।
তবু ও অপরাধ নিবি না ভাই
আজ আমি কিছু সত্যের
মুখোমুখি হতে চাই।
এতে তোর কোনো
পরিবর্তন হবে না জানি,
পরিবর্তনের পথ
একটু ও খোলা নেই।
তবু ও আমি যে
শান্তি পাই।
জানিস ভাই,
খুব মনে পড়ে
আমাদের বাবা বিছানা শয্যাশায়ী
ঘরেতে অভাব,
সম্ভ্রান্ত আত্মীয় স্বজন
হয়েছে বিদায়ী।
তুই আর আমি
ছাত্র পড়াই।
তাতে বাবার ঔষধ
খানিকটা হয়,
জমির শাক-পাতা জুড়ে
কোনরকমে জীবনটা চলে যায়।
মাঝে মাঝে তুই বিরক্ত হতিস,
পড়াতে না, নিজে পড়তে চাইতিস।
অপারগ আমি , কিচ্ছু বুঝতে চাইনি।
মা , আমি তুই বাবা
রুটির কাছে নতজানু হয়েছি।
চাওয়া আর পাওয়ার বিস্তর ফারাক
তোর মনকে বিকল করল ,
বিরস হলো পার্থিব জীবনের
সব কিছু।
তুই যেন কেমন হয়ে গেলি ভাই!!
সব কিছুতেই ভয় পেতিস,
চীৎকার করতিস ,
আমিও গোটা পরিস্থিতিটাকে
ভয় পেতে শুরু করলাম।
ভয়ে, অপমানে লজ্জায় অপারগতায়
দায় দায়িত্ব এড়ানোর কৌশল
রপ্ত করেছি কৌশলে।
অন্তরে রক্ত ঝরিয়ে শিখেছি,
মেয়েদের যন্ত্রের মত হতে হয়।
সামাজিক ভয়ে,
বাঁচার আশায়
উচিত অনুচিতের সীমানা পেরিয়ে
ঘর বাঁধলাম,
সংসারী হলাম।
গাঁটছড়া বাঁধলাম
সম্ভ্রান্ত যন্ত্রনায়।
যন্ত্রনাকে প্রানে জড়িয়ে
খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে চললাম
জীবনকে নিয়ে।
ক্লান্ত অবসন্ন আমার মনে,
রবীন্দ্রনাথ , বিবেকানন্দ
মাতঙ্গিনি ভেসে উঠত।
চীৎকার করে বলত
চলো এগিয়ে চলো
থামলে চলবে না।
ভাই জানিস,
চিন্তার, চাওয়ার আর পাওয়ার
গতিপথ সরলরেখায় হয় না।
যদিও তোকে বলা আজ বৃথা।
তবু নিজের অপারগতা ঢাকতে
অনেক কিছুই বলতে চাইছি
এই রাখি বন্ধন উৎসবে।
আজ খুব মনে পড়ছে,
বিকল মন অবসন্ন শরীরেও
আমার কর্ম নিযুক্তি পত্র টা
তোর বুক পকেটে ভরে এনেছিলি।
তুলে দিয়েছিল আমার হাতে।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য
বেহুঁশ হয়েছিলাম আনন্দে।
হুঁশ আসতেই আদরে আদরে
ভরিয়ে ছিলাম তোকে।
যদিও তুই ছিলি
এক্কেবারে নিস্পৃহ।
ওটাই বোধহয় আমার
শেষ উজ্বল রাখি উৎসব!!
তুই আমার সবচেয়ে ছোট ভাই
সন্তান স্নেহে বড় করেছি তোকেই।
বড় হতেই,ভাগ করেছিস
লাঘব করেছিস দুঃখ কে।
দুঃখের রাজা ভাই,
এখন আমার ওসব
মনে করতে নেই।
এখন আমি
ঘোরতর সংসারী!!
তোকে তো আমি
ভুলেই গিয়েছি,
ভুলেই গিয়েছি কবে!!
রাখি উৎসব হারিয়ে গেছে
দুঃখের ভৈরবে।।
মাধবী রায়
৩/৮/২০২০
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন